দেশে দ্রুত রূপ বদলাচ্ছে করোনাভাইরাস: বিসিএসআইআর
বিশ্বে করোনা ভাইরাসের রূপান্তরের হার ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে এই হার ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। রোববার বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) সবশেষ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। এসসময় আরো জানানো হয়, কোভিড ভ্যাকসিন উৎপাদনে ৫০টি দেশের সঙ্গে অংশীদার হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। সভাপতিত্বকালে গবেষণার প্রতিবেদন তুলে ধরেন বিসিএসআইআর-এর চেয়ারম্যান মো. আফতাব আলী শেখ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮টি বিভাগ থেকে ৩শ’ ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়েছে। তাতে সংক্রমণ, রূপ বদলের হার, জিনগত বৈচিত্র এবং মানবদেহে এর বিস্তার ক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, করোনা ভাইরাসে মোট ২৮টি প্রোটিন থাকে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে স্পাইক প্রোটিন, যার মাধ্যমে বাহককে আক্রমণ করে। করোনার নমুনা বিশ্লেষণ করে তারা দেখেছেন, স্পাইক প্রোটিনে ৬১৪ তম অবস্থানে অ্যাসপার্টিক এসিডের পরিবর্তন হয়ে গ্লাইসিন হয়েছে। এতে ‘জি৬১৪’ নম্বর ভ্যারিয়েন্টটি শতভাগ ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার করেছে। এই আধিপত্যের কারণে দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেশি হচ্ছে।
দেশে এ পর্যন্ত ৩২৫টি করোনা ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জীবন নকশা বের করা হয়েছে। এর মধ্যে বিসিএসআইআরের জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির গবেষকেরা ২৬৩টি করোনা ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জীবন নকশা বের করেছেন। এই ২৬৩টি ভাইরাসের জিন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, দেশের করোনা ভাইরাসগুলোর জিনোমিক পর্যায়ে ৭৩৭টি পয়েন্টে রূপান্তর (মিউটেশন) হয়েছে। এর মধ্যে অ্যামিনো এসিড পর্যায়ে ৩৫৮ নন-সিনোনিমাস অ্যামিনো এসিডে প্রতিস্থাপন ঘটেছে। এ ছাড়া স্পাইক প্রোটিনের জিনে ১০৩টি নিওক্লিটাইড রূপান্তরের (মিউটেশন) মধ্যে ৫৩টি নন-সিনোনিমাস অ্যামিনো এসিডে প্রতিস্থাপন ঘটেছে। এর মধ্যে ৫টি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র, যা বিশ্বের আর কোথাও পাওয়া যায়নি।
গবেষকেরা বলছেন, সারা বিশ্বে সব মিলিয়ে ৬ ধরণের করোনা ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ২৬৩টি করোনা ভাইরাস পর্যবেক্ষণ করে বিসিএসআইআরের গবেষকেরা ৪ ধরনের—২৪৩টি জিআর ক্লেড, ১৬টি জিএইচ ক্লেড, ৩টি জি ক্লেড এবং ১টি ও ক্লেড করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পেয়েছেন। এছাড়া করোনার নমুনাগুলোর শতভাগ ক্ষেত্রে মোট ৪টি মিউটেশনে পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা গেছে। এসব পরিবর্তন দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের জন্য মূলত দায়ী।
বিসিএসআইআর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আফতাব আলী শেখ বলেন, জীনগত বৈচিত্র পরিবর্তন করার জন্য সার্স গ্রোভ-২ ভাইরাসের সর্বমোট ২৬৩টি জিনোম সিকোয়েন্সিং ও ডাটা প্রসেসিং করা হয়।
এই গবেষণা প্রতিবেদন ৫০টি দেশে পাঠানো হয়েছে। বিশ্বের যে ৫টি প্রতিষ্ঠান জিনোম সিকোয়েন্সিং করছে, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ তার একটি বলেও জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান।
প্রতিবেদনটি বিজ্ঞান জার্নালে প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয় অনুষ্ঠানে।